logo
খবর

গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক০৫ অক্টোবর ২০২৫
Copied!
গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ইতি আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ইতি আক্তারের বাবার পরিবারের অভিযোগ, শাশুড়ি ও ননদ তাদের মেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন।

খবর আজকের পত্রিকার।

মৃত ইতি আক্তার কাপাসিয়া উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘিঘাট গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী আকতার হোসেন সৌদি আরবে থাকেন।

মৃত নারীর মা বিলকিস বেগম বলেন, ‘আজ [শুক্রবার] সকালে ইতির শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোন করে বলে, মেয়েকে দেখতে হলে দ্রুত তাদের বাড়িতে যেতে হবে। এরপর আমি দ্রুত গিয়ে দেখি, বারান্দায় মেয়ের লাশ পড়ে আছে। শাশুড়ি-ননদ জানায়, ইতি আত্মহত্যা করেছে। আমি জানতে চাইলাম, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকত, তাকে কে নামাল। এরপর তারা কোনো কথা বলেনি।’

বিলকিস বেগম আরও বলেন, ‘পাঁচ বছর হলো মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকে ইতিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করত। মেয়ের সুখের কথা ভেবে ইতির স্বামীকে আমরা টাকাপয়সা দিয়ে সৌদিতে পাঠাই। তবু শাশুড়ি-ননদের নির্যাতন থামেনি। নির্যাতনের কারণে অনেকবার ইতি বাবার বাড়িতে চলে এসেছে। তাকে বুঝিয়ে ফের স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হতো। কিছুদিন আগেও নির্যাতিত হয়ে ইতি বাবার বাড়ি চলে আসে। ওর স্বামী দেশে ফিরে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। এক মাস আগে ইতির স্বামী সৌদিতে চলে যায়।’

মৃতের ভাবি শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমরা ইতির শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় লাশ দেখত পাই। বাড়ির লোকজন বলে, সে আত্মহত্যা করেছে। ঘরের আড়ায় ওড়না ঝোলানো ছিল। গলায় একটি চিকন দাগ রয়েছে।’

শারমিন বলেন, ‘বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে ইতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। পরে এটিকে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

ইতি আক্তারের দেবর আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমি ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার সময় ভাবিকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কাছে গিয়ে দেখতে পাই, তিনি ঝুলে আছেন। আমরা দ্রুত তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামাই। পরে দেখি, তিনি মারা গেছেন।’

মৃত গৃহবধূর বাবার বাড়ির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ননদ মিনারা খাতুন বলেন, ‘ভাবির সঙ্গে আমাদের তেমন কোনো ধরনের ঝগড়াঝাঁটি কোনো দিন হয়নি। ভাই প্রবাসে থাকার কারণে ভাবি বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। এ নিয়ে মা মাঝেমধ্যে একটু কটু কথা বলতেন। তবে কোনো দিন হাত তোলেননি। কী কারণে ভাবি আত্মহত্যা করলেন, এটা বলতে পারছি না। মৃত্যুর পর ভাবির বাড়ির লোকজন এমন অভিযোগ তুলছে। এগুলো সব মিথ্যা।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

আরও দেখুন

লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ

লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ

বৈঠকে লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নমূলক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

২৪ দিন আগে

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর সোমবার থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর সোমবার থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।

০৭ জুলাই ২০২৬

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দুর্নীতি: রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদ খতিয়ে দেখছে দুদক

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দুর্নীতি: রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদ খতিয়ে দেখছে দুদক

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধাপে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১৯১ জনের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরও ২২ জনের কাছে নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

০৬ জুলাই ২০২৬

প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

নুরুল হক নুর বলেন, “এক সময় বিদেশে নির্যাতনের শিকার হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিকার চাইতে পারতেন না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে নির্যাতনের শিকার কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”

০৬ জুলাই ২০২৬