
অজন্তা চৌধুরী, টরন্টো, কানাডা

কানাডার টরন্টোয় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্ববৃহৎ ইনডোর ইভেন্ট এবিএ সাপোর্ট সার্ভিসেস প্রেজেন্টস নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল। বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান গত ১৬ মে আয়োজন করা হয়। স্থান বরাবরের মতোই টরন্টো প্যাভিলিয়ান। এই আয়োজনটি পাওয়ারড বাই রিয়েলটর আব্দুল আউয়াল, কো-টাইটেল স্পন্সর ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী এবং ইভেন্ট পার্টনার খাজানা বাই খাজানা মিঠাই।

এক যুগের এই পথ চলায় কানাডার সর্বাধিক পঠিত সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদপত্র ‘বাংলামেইল’ আয়োজিত বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল সব সময় নতুন কিছু করে আসছে, যা এই আয়োজনটিকে সমৃদ্ধ করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তাদের পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে এবং অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সকল নিবেদিত প্রাণ মানুষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এ ছাড়াও, নতুন কিছু সংযোজন অনুষ্ঠাটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

এবারের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয় নতুন প্রজন্মের দুই তারকা শিল্পীকে, যারা বিশ্ব দরবারে ও পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে বাংলা গানের প্রচার ও প্রসারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। একজন মুজা এবং অন্যজন আরজিন কামাল।
ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় নবম এই আয়োজনটি। হলভর্তি দর্শকদের সাথে নিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠানটি দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে মঞ্চে আসেন এবং এক সাথে কণ্ঠ মিলান কানাডা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সাথে। ল্যান্ড একনলেজমেন্ট পড়েন প্রিয় মেয়ে নির্জলা প্রিয়দর্শিনী।

এই আয়োজনটিতে মূল ধারার অনেকেই শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন উপস্থিত হয়ে আবার কেউ বা শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তাটি পড়েন আরেক প্রিয় মেয়ে যাহরা চৌধুরী। প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তাটি পর্দায় দেখানো হয়।
এর পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় টরন্টোয় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এম ডি শাহ আলম খোকন, বাংলামেইল সম্পাদক, এনআরবি টিভির সিইও এবং বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা কনভেনর শহিদুল ইসলাম মিন্টু,

বাংলামেইলের নির্বাহী সম্পাদক কাজী আলম বাবু, বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর স্বপ্না দাস, এবিএ সাপোর্ট সার্ভিসেসের সিইও ও প্রথম বাংলাদেশি বিসিবিএ তাসমিনা খান, বিশিষ্ট রিয়েলটর টরন্টো হোমস বিল্ডারের সিইও আব্দুল আউয়াল, সুরিয়া ল প্রফেশনাল করপোরেশনের কর্নধার ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, সংগঠক ও খাজানা বাই খাজানা মিঠাইয়ের কর্ণধার খোকন আব্বাস, সিপিএ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অ্যাকাউন্টট্যান্ট মোর্শেদ নিজাম, ব্যারিস্টার ওমর হাসান আল জাহিদ এবং স্পাইসি গ্রিলের কর্নধার তানজিম সোহাগকে।

কনসাল জেনারেল এম ডি শাহ আলম খোকনের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের জাকজমকপূর্ণ আয়োজন। এ ছাড়া, মঞ্চে উপস্থিত সকলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রথমেই নৃত্যকলা কেন্দ্রের দৃষ্টিনন্দন নৃতায়োজন ছিল প্রশংসিত। গুরু বিপ্লব কর, গুরু মা দীপশিখা কর এবং বিভিন্ন বয়সের খুদে ও তরুণ নৃত্যশিল্পীদের নাচের মাঝে দর্শক ফিরে যান বাংলা মায়ের কোলে।

বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল প্রতি বছর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানিয়ে থাকে। এই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আইভেন ডি রোজারিওকে সম্মান জানানো হয়। ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে…’ গানটির সাথে উপস্থিত দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান জানান সাহসী এই মুক্তিযোদ্ধাকে।

এর পরে টরোন্টোর গুণী সংগীত শিল্পীরা মঞ্চে সুরের ধারা ছড়িয়ে দেন দর্শক হৃদয়ে। যারা সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন তারা হলেন মাসুদ আহমেদ, টিটো আহমেদ, এমরান হোসেন সুমন, ফারহানা লিমা, তাসমিনা খান ও শমিত বড়ুয়া।

প্রতি আয়োজনে বিশেষ অবদানের জন্য এনআরবি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় এবং এই বছর সংগীত শাখায় শমিত বড়ুয়াকে এই অ্যাওয়ার্ডটি দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
নৃতায়োজনে আরও ছিল গুণী নৃত্যশিল্পী নাহিদ নাসরিন নয়নের একটি নৃত্য এবং গুরু চিত্র দাস ও চারুশি সেনের যুগল নৃত্য।

এই বছর প্রথম শুরু হয়েছে ‘বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’-এর পথচলা। বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কারের জুরিবোর্ড ২০২৬ সালের জন্য কানাডার ভ্যাংকুভার নিবাসী কবি, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও সম্পাদক শাহানা আকতার মহুয়াকে নির্বাচন করেছে। কানাডার শিল্প-সাহিত্যের যে বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড প্রথমবারের মতো বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করেন তারা হলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী, লেখক ও সাপ্তাহিক বাংলামেইলের সম্পাদকীয় উপদেষ্টা সৈয়দ ইকবাল, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস, কবি ও সংগঠক দেলওয়ার এলাহী, কবি ইকবাল হাসানের পরিবারের পক্ষে কথাসাহিত্যিক তসলিমা হাসান এবং বাংলা মেইলের পক্ষে সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু। মঞ্চে আহ্বান জানানো হয় সৈয়দ ইকবাল, সুব্রত কুমার দাস, দেলওয়ার এলাহী, তসলিমা হাসান ও শহিদুল ইসলাম মিন্টুকে। ১০০০ ডলারের একটি চেক ও পুরস্কার প্রদানের জন্যে মঞ্চে আসেন পয়েট লরিয়েট লিলিয়ান এ্যালেন।

টরোন্টোর গুণী শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজনটি শেষ হয় নৃত্যকলা কেন্দ্রের আরও একটি অনবদ্য পরিবেশনার মাঝে দিয়ে। এর মাঝে সম্মানিত পৃষ্ঠপোষকদের মঞ্চে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। আয়োজনে বরাবরের মতো মূলধারার রাজনৈতিকবৃন্দ ও সম্মানিত এমপি, এমপিপি, কাউন্সিলর ও টরন্টোর মেয়র মঞ্চে আসেন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তাদের মাঝে যারা নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন—Olivia Chow (Mayor, Toronto City), Nathaniel Erskine-Smith (MP), Salma Zahid (MP), Doly Begum (MP), Marit Stiles (MPP, Leader of the Official Opposition) , Andrea Hazell (MPP), David Smith (MPP), Wong Tam (MPP), Brad Bradford (Toronto City Councillor) এবং Parthi Kandavel (Toronto City Councillor)। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানের পরে তারা এই আয়োজনের সম্মানিত স্পন্সদের হাতে ক্রেস্ট প্রদান করেন।

অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনার আগে আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার মাসুদ করিমের হাস্যরসাত্মক কথোপকথন ছিল বিশেষ হাসির খোরাক।
অতিথি শিল্পীদের মাঝে প্রথমেই আসেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা আরজিন কামাল। সংগীতের কোনো ভাষা নেই, তাইতো ভিনদেশিদের মাঝেও তিনি বাংলা গানকে করেছেন জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে, কানাডার বিভিন্ন শহরে। তিনি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত শিল্পী তো বটেই। বাংলাদেশে তিনি হালে একাধিক চলচিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গায়কীর যাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ হন টরন্টো প্যাভিলিয়নের উপস্থিত দর্শক। তার মৌলিক গানের সাথে কণ্ঠ মেলান, তার সুরের ছন্দে নেচে উঠেন, কখনো বা তার সুর তরঙ্গে হারিয়ে যান সকলে। ভিন্ন পরিবেশনায় তিনি মুগ্ধতা ছড়াতে থাকেন টানা একটি ঘন্টা।

এর পরে তরুণ হৃদয়ের ক্রেজ মুজা আসেন মঞ্চে। ইতিমধ্যে তিনি বাংলা পুরোনো গানকে নিয়ে নানা গবেষণাধর্মী কাজ করে সুপরিচিত হয়েছেন। মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে পাড়ি জমান পরিবারের সাথে। বাংলা গানকে ভালোবেসে বাংলা ভাষা চর্চা শুরু করেন ও বাংলা গানকে নিয়ে নানা আঙ্গিকে উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ও প্রবাসে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। মঞ্চে তার উপস্থিতি ভক্ত শ্রোতাদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে , সবাই ঠোঁট মিলাতে থাকেন পরিচিত গানের সুরে। সিলেটি আঞ্চলিক গান, আধুনিক গানের মাঝে তিনি জয় করে নেন শ্রোতা হৃদয়। আয়োজনে এই দুই অতিথি শিল্পীকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়।

আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন টরোন্টোর দুই প্রিয় মুখ মাহবুব ওসমানী ও অজন্তা চৌধুরী। স্থির চিত্র গ্রহণে ছিলেন শহরের সুপরিচিত আলোকচিত্রশিল্পী দীপক সূত্রধর, জিসান সুলতানা ও কাজী সারোয়ার। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিল ড্যানফোর্থ সাউন্ড ও প্রজেক্টর ডিসপ্লেতে ছিলেন রিজভী আহমেদ রিজ। সাংস্কৃতিক আয়োজনটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন স্বপ্না দাস।

শেষ হয়ে আসে নবম বাংলাদেশের আয়োজন। টরোন্টোর সিগনেচার সর্ববৃহৎ ইনডোর ইভেন্টটি আবারো ভালোবাসায় ও উপস্থিত সকলের ভালোলাগায় সমৃদ্ধ হয়। টরোন্টোবাসীদের আস্থা, বিশ্বাস ও অকৃতিম ভালোবাসায় আবারও বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল প্রমাণ করেছে এক মহামিলনমেলা, ভালোবাসার বন্ধনে যা আগামী বছর ১০ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে। ১০ বছরে পা দেওয়া বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল আরও নতুনভাবে সমৃদ্ধ হবে, খুব শিগগিরই ঘোষণা হবে তারিখ, স্থান ও শিল্পীদের নাম।

কানাডার টরন্টোয় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্ববৃহৎ ইনডোর ইভেন্ট এবিএ সাপোর্ট সার্ভিসেস প্রেজেন্টস নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল। বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান গত ১৬ মে আয়োজন করা হয়। স্থান বরাবরের মতোই টরন্টো প্যাভিলিয়ান। এই আয়োজনটি পাওয়ারড বাই রিয়েলটর আব্দুল আউয়াল, কো-টাইটেল স্পন্সর ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী এবং ইভেন্ট পার্টনার খাজানা বাই খাজানা মিঠাই।

এক যুগের এই পথ চলায় কানাডার সর্বাধিক পঠিত সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদপত্র ‘বাংলামেইল’ আয়োজিত বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল সব সময় নতুন কিছু করে আসছে, যা এই আয়োজনটিকে সমৃদ্ধ করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তাদের পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে এবং অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সকল নিবেদিত প্রাণ মানুষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এ ছাড়াও, নতুন কিছু সংযোজন অনুষ্ঠাটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

এবারের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয় নতুন প্রজন্মের দুই তারকা শিল্পীকে, যারা বিশ্ব দরবারে ও পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে বাংলা গানের প্রচার ও প্রসারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। একজন মুজা এবং অন্যজন আরজিন কামাল।
ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় নবম এই আয়োজনটি। হলভর্তি দর্শকদের সাথে নিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠানটি দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে মঞ্চে আসেন এবং এক সাথে কণ্ঠ মিলান কানাডা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সাথে। ল্যান্ড একনলেজমেন্ট পড়েন প্রিয় মেয়ে নির্জলা প্রিয়দর্শিনী।

এই আয়োজনটিতে মূল ধারার অনেকেই শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন উপস্থিত হয়ে আবার কেউ বা শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তাটি পড়েন আরেক প্রিয় মেয়ে যাহরা চৌধুরী। প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তাটি পর্দায় দেখানো হয়।
এর পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় টরন্টোয় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এম ডি শাহ আলম খোকন, বাংলামেইল সম্পাদক, এনআরবি টিভির সিইও এবং বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা কনভেনর শহিদুল ইসলাম মিন্টু,

বাংলামেইলের নির্বাহী সম্পাদক কাজী আলম বাবু, বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর স্বপ্না দাস, এবিএ সাপোর্ট সার্ভিসেসের সিইও ও প্রথম বাংলাদেশি বিসিবিএ তাসমিনা খান, বিশিষ্ট রিয়েলটর টরন্টো হোমস বিল্ডারের সিইও আব্দুল আউয়াল, সুরিয়া ল প্রফেশনাল করপোরেশনের কর্নধার ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, সংগঠক ও খাজানা বাই খাজানা মিঠাইয়ের কর্ণধার খোকন আব্বাস, সিপিএ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অ্যাকাউন্টট্যান্ট মোর্শেদ নিজাম, ব্যারিস্টার ওমর হাসান আল জাহিদ এবং স্পাইসি গ্রিলের কর্নধার তানজিম সোহাগকে।

কনসাল জেনারেল এম ডি শাহ আলম খোকনের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের জাকজমকপূর্ণ আয়োজন। এ ছাড়া, মঞ্চে উপস্থিত সকলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রথমেই নৃত্যকলা কেন্দ্রের দৃষ্টিনন্দন নৃতায়োজন ছিল প্রশংসিত। গুরু বিপ্লব কর, গুরু মা দীপশিখা কর এবং বিভিন্ন বয়সের খুদে ও তরুণ নৃত্যশিল্পীদের নাচের মাঝে দর্শক ফিরে যান বাংলা মায়ের কোলে।

বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল প্রতি বছর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানিয়ে থাকে। এই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আইভেন ডি রোজারিওকে সম্মান জানানো হয়। ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে…’ গানটির সাথে উপস্থিত দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান জানান সাহসী এই মুক্তিযোদ্ধাকে।

এর পরে টরোন্টোর গুণী সংগীত শিল্পীরা মঞ্চে সুরের ধারা ছড়িয়ে দেন দর্শক হৃদয়ে। যারা সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন তারা হলেন মাসুদ আহমেদ, টিটো আহমেদ, এমরান হোসেন সুমন, ফারহানা লিমা, তাসমিনা খান ও শমিত বড়ুয়া।

প্রতি আয়োজনে বিশেষ অবদানের জন্য এনআরবি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় এবং এই বছর সংগীত শাখায় শমিত বড়ুয়াকে এই অ্যাওয়ার্ডটি দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
নৃতায়োজনে আরও ছিল গুণী নৃত্যশিল্পী নাহিদ নাসরিন নয়নের একটি নৃত্য এবং গুরু চিত্র দাস ও চারুশি সেনের যুগল নৃত্য।

এই বছর প্রথম শুরু হয়েছে ‘বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’-এর পথচলা। বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কারের জুরিবোর্ড ২০২৬ সালের জন্য কানাডার ভ্যাংকুভার নিবাসী কবি, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও সম্পাদক শাহানা আকতার মহুয়াকে নির্বাচন করেছে। কানাডার শিল্প-সাহিত্যের যে বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড প্রথমবারের মতো বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করেন তারা হলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী, লেখক ও সাপ্তাহিক বাংলামেইলের সম্পাদকীয় উপদেষ্টা সৈয়দ ইকবাল, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস, কবি ও সংগঠক দেলওয়ার এলাহী, কবি ইকবাল হাসানের পরিবারের পক্ষে কথাসাহিত্যিক তসলিমা হাসান এবং বাংলা মেইলের পক্ষে সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু। মঞ্চে আহ্বান জানানো হয় সৈয়দ ইকবাল, সুব্রত কুমার দাস, দেলওয়ার এলাহী, তসলিমা হাসান ও শহিদুল ইসলাম মিন্টুকে। ১০০০ ডলারের একটি চেক ও পুরস্কার প্রদানের জন্যে মঞ্চে আসেন পয়েট লরিয়েট লিলিয়ান এ্যালেন।

টরোন্টোর গুণী শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজনটি শেষ হয় নৃত্যকলা কেন্দ্রের আরও একটি অনবদ্য পরিবেশনার মাঝে দিয়ে। এর মাঝে সম্মানিত পৃষ্ঠপোষকদের মঞ্চে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। আয়োজনে বরাবরের মতো মূলধারার রাজনৈতিকবৃন্দ ও সম্মানিত এমপি, এমপিপি, কাউন্সিলর ও টরন্টোর মেয়র মঞ্চে আসেন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তাদের মাঝে যারা নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন—Olivia Chow (Mayor, Toronto City), Nathaniel Erskine-Smith (MP), Salma Zahid (MP), Doly Begum (MP), Marit Stiles (MPP, Leader of the Official Opposition) , Andrea Hazell (MPP), David Smith (MPP), Wong Tam (MPP), Brad Bradford (Toronto City Councillor) এবং Parthi Kandavel (Toronto City Councillor)। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানের পরে তারা এই আয়োজনের সম্মানিত স্পন্সদের হাতে ক্রেস্ট প্রদান করেন।

অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনার আগে আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার মাসুদ করিমের হাস্যরসাত্মক কথোপকথন ছিল বিশেষ হাসির খোরাক।
অতিথি শিল্পীদের মাঝে প্রথমেই আসেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা আরজিন কামাল। সংগীতের কোনো ভাষা নেই, তাইতো ভিনদেশিদের মাঝেও তিনি বাংলা গানকে করেছেন জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে, কানাডার বিভিন্ন শহরে। তিনি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত শিল্পী তো বটেই। বাংলাদেশে তিনি হালে একাধিক চলচিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গায়কীর যাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ হন টরন্টো প্যাভিলিয়নের উপস্থিত দর্শক। তার মৌলিক গানের সাথে কণ্ঠ মেলান, তার সুরের ছন্দে নেচে উঠেন, কখনো বা তার সুর তরঙ্গে হারিয়ে যান সকলে। ভিন্ন পরিবেশনায় তিনি মুগ্ধতা ছড়াতে থাকেন টানা একটি ঘন্টা।

এর পরে তরুণ হৃদয়ের ক্রেজ মুজা আসেন মঞ্চে। ইতিমধ্যে তিনি বাংলা পুরোনো গানকে নিয়ে নানা গবেষণাধর্মী কাজ করে সুপরিচিত হয়েছেন। মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে পাড়ি জমান পরিবারের সাথে। বাংলা গানকে ভালোবেসে বাংলা ভাষা চর্চা শুরু করেন ও বাংলা গানকে নিয়ে নানা আঙ্গিকে উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ও প্রবাসে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। মঞ্চে তার উপস্থিতি ভক্ত শ্রোতাদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে , সবাই ঠোঁট মিলাতে থাকেন পরিচিত গানের সুরে। সিলেটি আঞ্চলিক গান, আধুনিক গানের মাঝে তিনি জয় করে নেন শ্রোতা হৃদয়। আয়োজনে এই দুই অতিথি শিল্পীকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়।

আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন টরোন্টোর দুই প্রিয় মুখ মাহবুব ওসমানী ও অজন্তা চৌধুরী। স্থির চিত্র গ্রহণে ছিলেন শহরের সুপরিচিত আলোকচিত্রশিল্পী দীপক সূত্রধর, জিসান সুলতানা ও কাজী সারোয়ার। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিল ড্যানফোর্থ সাউন্ড ও প্রজেক্টর ডিসপ্লেতে ছিলেন রিজভী আহমেদ রিজ। সাংস্কৃতিক আয়োজনটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন স্বপ্না দাস।

শেষ হয়ে আসে নবম বাংলাদেশের আয়োজন। টরোন্টোর সিগনেচার সর্ববৃহৎ ইনডোর ইভেন্টটি আবারো ভালোবাসায় ও উপস্থিত সকলের ভালোলাগায় সমৃদ্ধ হয়। টরোন্টোবাসীদের আস্থা, বিশ্বাস ও অকৃতিম ভালোবাসায় আবারও বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল প্রমাণ করেছে এক মহামিলনমেলা, ভালোবাসার বন্ধনে যা আগামী বছর ১০ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে। ১০ বছরে পা দেওয়া বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল আরও নতুনভাবে সমৃদ্ধ হবে, খুব শিগগিরই ঘোষণা হবে তারিখ, স্থান ও শিল্পীদের নাম।
কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলায় আহতদের চিকিৎসার জন্য সেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্থানীয় নাগরিক ও অন্য দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসেন।
অনুষ্ঠানে একক ও দ্বৈত পরিবেশনায় ছিল নৃত্য আর সংগীতের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। লুবনা আলম তার অসাধারণ গায়কীতে নজরুলগীতি ‘মধুর নুপুর বাজে’ পরিবেশন করে শ্রোতাদের জাগতিক মোহ থেকে মুক্ত করে এক চিরন্তন সুন্দরের পানে নিয়ে যান।
এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তাদের পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে এবং অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সকল নিবেদিত প্রাণ মানুষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এ ছাড়াও, নতুন কিছু সংযোজন অনুষ্ঠাটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার (৩ জুন) ভোরে কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন। তাদের মধ্যে ২ জন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতাল দুটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।