
বিডিজেন ডেস্ক

গণতন্ত্রবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে পালিয়ে থাকা চক্র এখনো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মেক্সিকোতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’- শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন মুসোলিনির ফ্যাসিবাদকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মুসোলিনি যেমন তোষামোদকারী ও কালো পোশাকধারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনাও ভিন্নমত দমন করতে হেলমেটধারী ছাত্রলীগের ওপর ভরসা করতেন। সেখানে ছাত্র, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ নাগরিক কেউই নিরাপদ ছিল না।’

তিনি বলেন, ওই শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ভেঙে দেওয়া হয়। পরিকল্পিতভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘অনেকে আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন যে, বাংলাদেশ হয়তো আর কখনো মুক্ত হবে না। কিন্তু সে ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছিল ছাত্র, যুবক, শ্রমিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত প্রতিরোধ। ত্যাগ ও ঐক্যের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল।’
তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক গোষ্ঠীর বিজয় নয়। এটি ছিল সবার বিজয়। সেখানে মায়ের কান্না যেমন ছিল, তেমনি ছিল বাবার প্রতিবাদও, ছিল ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক সবার রক্ত ও ঘাম।
তিনি প্রায় ২ হাজার শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ যেন বিফলে না যায়। দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞে যারা জড়িত ছিলেন, তাদেরকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ বছর ধরে চলা স্বৈরশাসন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এক সময় নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত প্রশাসন পরিণত হয়েছিল স্বৈরশাসনের মুখপাত্রে।

জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমলাতন্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার জরুরি।’
গণতন্ত্রকে ঘিরে চলমান হুমকির ব্যাপারে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যারা এক সময় ষড়যন্ত্র করতেন, তারা এখনো সক্রিয় ও বিপজ্জনক। আমাদের মাঝে বিভাজন ঘটাতে পারলে, তাদের ফিরে আসার পথ সুগম হবে। আমাদের ঐক্য রক্ষা করতেই হবে। মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবপাচারের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নিরাপদ, নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবপাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

রাষ্ট্রদূত মুশফিক মেক্সিকোপ্রবাসী সব বাংলাদেশিকে বাংলাদেশ-মেক্সিকোর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
এসব আয়োজনের মধ্যে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীও রয়েছে।
আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়।
পরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, গণঅভ্যুত্থান নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী ও দেশাত্মবোধক গানের পরিবেশনা হয়।
মেক্সিকোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে অংশ নেন।
পরে অতিথিদের জন্য পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার। বিজ্ঞপ্তি

গণতন্ত্রবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে পালিয়ে থাকা চক্র এখনো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মেক্সিকোতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’- শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন মুসোলিনির ফ্যাসিবাদকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মুসোলিনি যেমন তোষামোদকারী ও কালো পোশাকধারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনাও ভিন্নমত দমন করতে হেলমেটধারী ছাত্রলীগের ওপর ভরসা করতেন। সেখানে ছাত্র, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ নাগরিক কেউই নিরাপদ ছিল না।’

তিনি বলেন, ওই শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ভেঙে দেওয়া হয়। পরিকল্পিতভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘অনেকে আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন যে, বাংলাদেশ হয়তো আর কখনো মুক্ত হবে না। কিন্তু সে ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছিল ছাত্র, যুবক, শ্রমিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত প্রতিরোধ। ত্যাগ ও ঐক্যের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল।’
তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক গোষ্ঠীর বিজয় নয়। এটি ছিল সবার বিজয়। সেখানে মায়ের কান্না যেমন ছিল, তেমনি ছিল বাবার প্রতিবাদও, ছিল ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক সবার রক্ত ও ঘাম।
তিনি প্রায় ২ হাজার শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ যেন বিফলে না যায়। দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞে যারা জড়িত ছিলেন, তাদেরকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ বছর ধরে চলা স্বৈরশাসন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এক সময় নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত প্রশাসন পরিণত হয়েছিল স্বৈরশাসনের মুখপাত্রে।

জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমলাতন্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার জরুরি।’
গণতন্ত্রকে ঘিরে চলমান হুমকির ব্যাপারে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যারা এক সময় ষড়যন্ত্র করতেন, তারা এখনো সক্রিয় ও বিপজ্জনক। আমাদের মাঝে বিভাজন ঘটাতে পারলে, তাদের ফিরে আসার পথ সুগম হবে। আমাদের ঐক্য রক্ষা করতেই হবে। মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবপাচারের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নিরাপদ, নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবপাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

রাষ্ট্রদূত মুশফিক মেক্সিকোপ্রবাসী সব বাংলাদেশিকে বাংলাদেশ-মেক্সিকোর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
এসব আয়োজনের মধ্যে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীও রয়েছে।
আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়।
পরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, গণঅভ্যুত্থান নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী ও দেশাত্মবোধক গানের পরিবেশনা হয়।
মেক্সিকোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে অংশ নেন।
পরে অতিথিদের জন্য পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার। বিজ্ঞপ্তি
প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব একাত্তর টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মোস্তফা ইমরান রাজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত সদস্যরা তাদের মতামত জানিয়ে বক্তব্য দেন। সভায় আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে বায়ান্ন নিউজের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম রতনকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াইটিবির বৃত্তি ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং জানান যে, বাংলাদেশ থেকে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহায়তা প্রদান করতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেট বৈষম্যহীন আঞ্চলিক উন্নয়নের সমতাভিত্তিক বাজেট উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ মানে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্ল্যান। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চান এবং তা শুরু করেছেন।
গণশুনানিতে যোগদানের জন্য দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল প্রবাসীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাহরাইনে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শতাধিক প্রবাসী এই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের কাছে সরাসরি তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।