
আব্দুস সবুর

ইরানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের পর সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের আকাশ পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে গত ১১ দিনে ৩৬৭টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটে নতুন কর্মীদের পাশাপাশি ছুটি শেষ হয়ে যাওয়া কর্মীদের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার কথা ছিল। এ পরিস্থিতিতে ছুটিতে দেশে আসা কর্মীরা চাকরি বাঁচানোর আতঙ্কে রয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যেও নিরাপত্তার আতঙ্ক বাড়ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১০ মার্চ পর্যন্ত ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী এসব ফ্লাইট বাতিলের কারণে ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী গন্তব্যের দেশে যেতে পারেননি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে তারা। যুদ্ধপরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী সমস্যার সম্মুখীন হলে, তা জানানোর জন্য চার সদস্যের কমিটিও কাজ করছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধিরও ঘোষণা দিয়েছে।
চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিচ্ছেন অনেকে, বিমানবন্দরে নানা ভোগান্তি
যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু পর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার কর্মীর ভিড় দেখা যায়। তাদের মধ্যে অনেকে ট্রানজিট নিয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন আবার অনেকের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ফিরে আসছেন।
আরও পড়ুন
জসিম আলী নামের সৌদিপ্রবাসী একজন বলেন, আমার কফিল যেতে বলছে, তাই সেখানে যাচ্ছি। কারণ তাদের কথা না শুনলে চাকরি হারাতে পারি। আমি ছুটিতে আসছিলাম। দুই মাস থাকার পর যাচ্ছি।
আরিফ ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, আমার ফ্লাইট ছিল গত সোমবার কিন্তু সব কিছু হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বলা হয়েছে ফ্লাইট বাতিল। আবার ফ্লাইট চালু হলে জানানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে ৪টি রুটে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
প্রবাসীদের আতঙ্ক ও স্বজনদের উদ্বেগ
ওমানে থাকা বাংলাদেশি নাজমুল হাসান বলেন, এখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় চলাফেরা নিষেধ। শুরুতে কিছু মনে হয়নি। তবে বিভিন্ন ভিডিও দেখার পর ভয় কাজ করছে। বাংলাদেশ থেকেও অনেকে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা নাহিত ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে সবার মধ্যেই এক ধরনের ভয় কাজ করছে। আমরা প্রায় ১০ জন বাঙালি এক সঙ্গে থাকি। আমাদের কোম্পানি থেকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। তবে পরিবারের অনেকে ভয় পাচ্ছে।
নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ও বাহরাইন প্রবাসীর বাবা আনিসুর রহমান বলেন, আমার ছেলে বিদেশ গেছে মাত্র এক বছর হয়েছে। এরমধ্যে এখন এই ঝামেলা। ছেলেকে বলেছি নিরাপদে থাকতে। প্রয়োজনে দেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে দেব তাও যেন নিরাপদে থাকে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফকরুল ইসলাম বলেন, “যুদ্ধের কারণে আমাদের ক্ষতি নিয়মিত বাড়ছে। আমাদের বর্তমান প্রধান শ্রমবাজার পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে প্রবাসে যারা আছেন, তারা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। অন্যদিকে এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহের ঘাটতিসহ আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
আরও পড়ুন

ইরানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের পর সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের আকাশ পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে গত ১১ দিনে ৩৬৭টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটে নতুন কর্মীদের পাশাপাশি ছুটি শেষ হয়ে যাওয়া কর্মীদের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার কথা ছিল। এ পরিস্থিতিতে ছুটিতে দেশে আসা কর্মীরা চাকরি বাঁচানোর আতঙ্কে রয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যেও নিরাপত্তার আতঙ্ক বাড়ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১০ মার্চ পর্যন্ত ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী এসব ফ্লাইট বাতিলের কারণে ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী গন্তব্যের দেশে যেতে পারেননি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে তারা। যুদ্ধপরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী সমস্যার সম্মুখীন হলে, তা জানানোর জন্য চার সদস্যের কমিটিও কাজ করছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধিরও ঘোষণা দিয়েছে।
চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিচ্ছেন অনেকে, বিমানবন্দরে নানা ভোগান্তি
যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু পর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার কর্মীর ভিড় দেখা যায়। তাদের মধ্যে অনেকে ট্রানজিট নিয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন আবার অনেকের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ফিরে আসছেন।
আরও পড়ুন
জসিম আলী নামের সৌদিপ্রবাসী একজন বলেন, আমার কফিল যেতে বলছে, তাই সেখানে যাচ্ছি। কারণ তাদের কথা না শুনলে চাকরি হারাতে পারি। আমি ছুটিতে আসছিলাম। দুই মাস থাকার পর যাচ্ছি।
আরিফ ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, আমার ফ্লাইট ছিল গত সোমবার কিন্তু সব কিছু হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বলা হয়েছে ফ্লাইট বাতিল। আবার ফ্লাইট চালু হলে জানানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে ৪টি রুটে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
প্রবাসীদের আতঙ্ক ও স্বজনদের উদ্বেগ
ওমানে থাকা বাংলাদেশি নাজমুল হাসান বলেন, এখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় চলাফেরা নিষেধ। শুরুতে কিছু মনে হয়নি। তবে বিভিন্ন ভিডিও দেখার পর ভয় কাজ করছে। বাংলাদেশ থেকেও অনেকে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা নাহিত ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে সবার মধ্যেই এক ধরনের ভয় কাজ করছে। আমরা প্রায় ১০ জন বাঙালি এক সঙ্গে থাকি। আমাদের কোম্পানি থেকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। তবে পরিবারের অনেকে ভয় পাচ্ছে।
নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ও বাহরাইন প্রবাসীর বাবা আনিসুর রহমান বলেন, আমার ছেলে বিদেশ গেছে মাত্র এক বছর হয়েছে। এরমধ্যে এখন এই ঝামেলা। ছেলেকে বলেছি নিরাপদে থাকতে। প্রয়োজনে দেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে দেব তাও যেন নিরাপদে থাকে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফকরুল ইসলাম বলেন, “যুদ্ধের কারণে আমাদের ক্ষতি নিয়মিত বাড়ছে। আমাদের বর্তমান প্রধান শ্রমবাজার পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে প্রবাসে যারা আছেন, তারা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। অন্যদিকে এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহের ঘাটতিসহ আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
আরও পড়ুন
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১০ মার্চ পর্যন্ত ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
অফিস আদেশে কার্যপরিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ থেকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে বিদেশস্থ শ্রমকল্যাণ উইংয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং ছক মোতাবেক তথ্যাদি সংগ্রহপূর্বক ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার কাছে জমা দেবেন।
বোসরা ইসলাম বলেন, “যাত্রীদের অবগতির জন্য আমরা জানাচ্ছি যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী যেসব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছিল, তার মধ্যে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইটগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।”
পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।