
শাহাবুদ্দিন শুভ

সিলেট শহরের প্রতি আমার ভালোবাসাটা সত্যিই অন্যরকম। এই শহরের প্রেমে পড়েছি সেই কলেজ জীবনে। জীবনের নানা প্রয়োজনে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে, তবুও কেন যেন এই শহরটাকে কখনো ভুলতে পারিনি। মনে হয় হৃদয়ের ভেতর কোথাও সিলেট স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
এই শহরের কোনো সুখবর শুনলে মন আনন্দে ভরে ওঠে। আবার যখন কোনো খারাপ খবর দেখি, তখন মনটা অকারণে ভারী হয়ে যায়। মানুষের জীবনে যেমন প্রথম প্রেমের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না, তেমনি আমার কাছে শহরের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটা দখল করে আছে সিলেট।
আজ সিলেট নিয়ে লিখতে বসার পেছনে একটি বিশেষ কারণ আছে। মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে নগরীতে ঘটেছে দুটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা। উদ্বেগের বিষয় হলো—দুটি ঘটনাই ঘটেছে প্রকাশ্যে, দিনদুপুরে। শুধু তাই নয়, ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অথচ এত কিছুর পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সাগরদিঘিরপাড় এলাকায় ঘটে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। যদিও পুলিশের দাবি—এটি পুরোপুরি ছিনতাই নয়, বরং ছিনতাইয়ের চেষ্টা ছিল। কারণ ছিনতাইকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো কিছু নিয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এভাবে প্রকাশ্যে একজন নারীকে আক্রমণ করে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা যদি ছিনতাই না হয়, তবে সেটিকে কী বলা হবে?
এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেদিন বেলা ৩টার দিকে এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইকারীরা এসে ওই নারীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর তারা জোরপূর্বক তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
এই ঘটনাটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সেই ফুটেজ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—ঘটনার পর এতদিন পার হয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সাগরদিঘিরপাড়ের ঘটনাতেও শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ কি সত্যিই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারছে না, নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য বাধা কাজ করছে?
সাগরদিঘিরপাড়ের ঘটনাটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ নাড়া দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ছিনতাইকারীরা যেভাবে ওই নারীকে আঘাত করতে শুরু করেছিল, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। সামান্য একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত।
সিলেট এমন একটি শহর যেখানে অসংখ্য প্রবাসী পরিবারের বসবাস। এখানে অনেক নারী তাদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য একা বসবাস করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের স্বামীরা বিদেশে কর্মরত থাকেন। ফলে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের শহরে একাই থাকতে হয়। এই বাস্তবতার মধ্যে যদি দিনের আলোয় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়বে। অনেক মা হয়তো সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার কথা ভাববেন। কিন্তু তাতে করে সন্তানদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এখন আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। অপরাধীরা যদি প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যায়, তাহলে সেটি শুধু একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তা ধীরে ধীরে সমাজে অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে।

আজকের যুগে সিসিটিভি প্রযুক্তি অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ক্যামেরায় যদি অপরাধীদের গাড়ি, মুখ কিংবা চলাচলের পথ ধরা পড়ে থাকে, তাহলে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ার কথা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন অপরাধীরা এখনও ধরা পড়ছে না? তদন্তে কি কোনো গাফিলতি রয়েছে, নাকি অপরাধীরা কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া পাচ্ছে? শহরের বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যেই এ ধরনের প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সিলেট একটি সম্ভাবনাময় শহর। প্রবাসীদের অবদানে এই শহরের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও এর আলাদা একটি পরিচিতি রয়েছে। এই শহরের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা খুবই স্পষ্ট—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। এতে শুধু অপরাধ দমনই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
আমরা যারা সিলেটকে ভালোবাসি, তারা চাই এই শহরটি আবার আগের মতোই নিরাপদ, শান্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক। কারণ সিলেট শুধু একটি শহরের নাম নয়—অনেকের আবেগ, স্মৃতি এবং ভালোবাসার আরেকটি নাম।
শাহাবুদ্দিন শুভ: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
ইমেইল: [email protected]

সিলেট শহরের প্রতি আমার ভালোবাসাটা সত্যিই অন্যরকম। এই শহরের প্রেমে পড়েছি সেই কলেজ জীবনে। জীবনের নানা প্রয়োজনে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে, তবুও কেন যেন এই শহরটাকে কখনো ভুলতে পারিনি। মনে হয় হৃদয়ের ভেতর কোথাও সিলেট স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
এই শহরের কোনো সুখবর শুনলে মন আনন্দে ভরে ওঠে। আবার যখন কোনো খারাপ খবর দেখি, তখন মনটা অকারণে ভারী হয়ে যায়। মানুষের জীবনে যেমন প্রথম প্রেমের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না, তেমনি আমার কাছে শহরের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটা দখল করে আছে সিলেট।
আজ সিলেট নিয়ে লিখতে বসার পেছনে একটি বিশেষ কারণ আছে। মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে নগরীতে ঘটেছে দুটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা। উদ্বেগের বিষয় হলো—দুটি ঘটনাই ঘটেছে প্রকাশ্যে, দিনদুপুরে। শুধু তাই নয়, ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অথচ এত কিছুর পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সাগরদিঘিরপাড় এলাকায় ঘটে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। যদিও পুলিশের দাবি—এটি পুরোপুরি ছিনতাই নয়, বরং ছিনতাইয়ের চেষ্টা ছিল। কারণ ছিনতাইকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো কিছু নিয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এভাবে প্রকাশ্যে একজন নারীকে আক্রমণ করে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা যদি ছিনতাই না হয়, তবে সেটিকে কী বলা হবে?
এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেদিন বেলা ৩টার দিকে এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইকারীরা এসে ওই নারীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর তারা জোরপূর্বক তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
এই ঘটনাটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সেই ফুটেজ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—ঘটনার পর এতদিন পার হয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সাগরদিঘিরপাড়ের ঘটনাতেও শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ কি সত্যিই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারছে না, নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য বাধা কাজ করছে?
সাগরদিঘিরপাড়ের ঘটনাটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ নাড়া দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ছিনতাইকারীরা যেভাবে ওই নারীকে আঘাত করতে শুরু করেছিল, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। সামান্য একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত।
সিলেট এমন একটি শহর যেখানে অসংখ্য প্রবাসী পরিবারের বসবাস। এখানে অনেক নারী তাদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য একা বসবাস করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের স্বামীরা বিদেশে কর্মরত থাকেন। ফলে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের শহরে একাই থাকতে হয়। এই বাস্তবতার মধ্যে যদি দিনের আলোয় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়বে। অনেক মা হয়তো সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার কথা ভাববেন। কিন্তু তাতে করে সন্তানদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এখন আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। অপরাধীরা যদি প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যায়, তাহলে সেটি শুধু একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তা ধীরে ধীরে সমাজে অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে।

আজকের যুগে সিসিটিভি প্রযুক্তি অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ক্যামেরায় যদি অপরাধীদের গাড়ি, মুখ কিংবা চলাচলের পথ ধরা পড়ে থাকে, তাহলে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ার কথা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন অপরাধীরা এখনও ধরা পড়ছে না? তদন্তে কি কোনো গাফিলতি রয়েছে, নাকি অপরাধীরা কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া পাচ্ছে? শহরের বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যেই এ ধরনের প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সিলেট একটি সম্ভাবনাময় শহর। প্রবাসীদের অবদানে এই শহরের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও এর আলাদা একটি পরিচিতি রয়েছে। এই শহরের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা খুবই স্পষ্ট—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। এতে শুধু অপরাধ দমনই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
আমরা যারা সিলেটকে ভালোবাসি, তারা চাই এই শহরটি আবার আগের মতোই নিরাপদ, শান্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক। কারণ সিলেট শুধু একটি শহরের নাম নয়—অনেকের আবেগ, স্মৃতি এবং ভালোবাসার আরেকটি নাম।
শাহাবুদ্দিন শুভ: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
ইমেইল: [email protected]
সাগরদিঘিরপাড়ের ঘটনাটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ নাড়া দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ছিনতাইকারীরা যেভাবে ওই নারীকে আঘাত করতে শুরু করেছিল, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। সামান্য একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত।
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যবস্থাও এই সংকটকে গভীর করেছে। সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব কারণে রাষ্ট্রের সদিচ্ছাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এই নির্বাচন কেবল আসনসংখ্যার হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত। তরুণ প্রজন্ম, ডিজিটাল রাজনীতি এবং সুশাসনের প্রশ্ন এখন নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই এটি আত্মসমালোচনা ও নীতিগত পুনর্গঠনের সময়।
আমি রোগীকে বলতে গেলাম। দেখি বউটা কাঁদছে। মেরি ওর নাম। রোগী বলছে, মেরি কেন যে এতটা ঝামেলা করে। ডাক্তার আমাদের চলে যেতে দাও। আমি বললাম, আরেকজন ডাক্তার আছেন যার ওপেনিয়ন নিতে হবে। তিনি তোমাদের চলে যেতে বললে আমি ডিসচার্জ করে দেব, সমস্যা নেই।