
রহমান মৃধা

সে এসেছিল ঝরা পাতার ঋতুতে নয়,
সে এসেছিল বসন্তের আগেই,
কাঁচা সবুজ, ভাঙেনি এখনো ডাল,
তবু তাকে ছিঁড়ে ফেলা হলো
হাতের জোরে, রাষ্ট্রের নীরবতায়।
তার কণ্ঠে ছিল দেশ,
তার চোখে ছিল মানুষ,
তার বুকের ভেতর ছিল এমন এক আগুন
যা জ্বালাতন নয়, আলো দিতে জানত।
সে ভয় পায়নি।
কারণ সে জানত,
যে দেশকে ভালোবাসে,
সে মৃত্যুকে ছোট করে দেখে।
জুলুম যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়,
সে তখন ব্যতিক্রম হয়ে ওঠে।
সে জানত, সত্য বলা মানে
একদিন একা হয়ে যাওয়া।
তবু সে থামেনি।
তার মৃত্যু আকস্মিক ছিল না,
ছিল অকাল।
এটি সময়ের আগেই ফসল কাটা,
ধান পেকে ওঠেনি,
তবু কাস্তে নামানো হয়েছে।
রাষ্ট্র শোক ঘোষণা করেছে,
পতাকা নত হয়েছে,
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে মাটিতে।
কিন্তু প্রশ্নটা রয়ে গেছে,
জীবিত থাকলে তাকে
এই মর্যাদা কি দেওয়া হতো?
মাটির নিচে সে নীরব,
কিন্তু তার অনুপস্থিতি কথা বলছে।
রাস্তায়, ঘরে, প্রশ্নে,
আর প্রতিটি চোখে
যেখানে ভয় আর লজ্জা একসঙ্গে বাসা বেঁধেছে।
সে শহীদ,
কারণ সে মরেছে দাঁড়িয়ে।
কারণ সে মরেছে পিছু না হটে।
কারণ সে জানত,
একটি মৃত্যুই কখনো কখনো
একটি জাতিকে আয়না দেখায়।
আজ সে নেই।
কিন্তু তার মতো কাঁচা পাতা
আর কত ছিঁড়ে ফেললে
একটি গাছ শুকিয়ে যায়,
এই প্রশ্নই তার কবরফলক।
যদি কোনো দিন এই দেশ
সত্যিকারের স্বাধীন হয়,
যদি কোনো দিন মানুষ
ভয় নয়, বিবেক নিয়ে বাঁচে,
তখন কেউ একজন বলবে,
একটি ঝরা পাতা
আমাদের বন বাঁচাতে
নিজেই ঝরে পড়েছিল।
রহমান মৃধা: গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
ইমেইল: [email protected]

সে এসেছিল ঝরা পাতার ঋতুতে নয়,
সে এসেছিল বসন্তের আগেই,
কাঁচা সবুজ, ভাঙেনি এখনো ডাল,
তবু তাকে ছিঁড়ে ফেলা হলো
হাতের জোরে, রাষ্ট্রের নীরবতায়।
তার কণ্ঠে ছিল দেশ,
তার চোখে ছিল মানুষ,
তার বুকের ভেতর ছিল এমন এক আগুন
যা জ্বালাতন নয়, আলো দিতে জানত।
সে ভয় পায়নি।
কারণ সে জানত,
যে দেশকে ভালোবাসে,
সে মৃত্যুকে ছোট করে দেখে।
জুলুম যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়,
সে তখন ব্যতিক্রম হয়ে ওঠে।
সে জানত, সত্য বলা মানে
একদিন একা হয়ে যাওয়া।
তবু সে থামেনি।
তার মৃত্যু আকস্মিক ছিল না,
ছিল অকাল।
এটি সময়ের আগেই ফসল কাটা,
ধান পেকে ওঠেনি,
তবু কাস্তে নামানো হয়েছে।
রাষ্ট্র শোক ঘোষণা করেছে,
পতাকা নত হয়েছে,
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে মাটিতে।
কিন্তু প্রশ্নটা রয়ে গেছে,
জীবিত থাকলে তাকে
এই মর্যাদা কি দেওয়া হতো?
মাটির নিচে সে নীরব,
কিন্তু তার অনুপস্থিতি কথা বলছে।
রাস্তায়, ঘরে, প্রশ্নে,
আর প্রতিটি চোখে
যেখানে ভয় আর লজ্জা একসঙ্গে বাসা বেঁধেছে।
সে শহীদ,
কারণ সে মরেছে দাঁড়িয়ে।
কারণ সে মরেছে পিছু না হটে।
কারণ সে জানত,
একটি মৃত্যুই কখনো কখনো
একটি জাতিকে আয়না দেখায়।
আজ সে নেই।
কিন্তু তার মতো কাঁচা পাতা
আর কত ছিঁড়ে ফেললে
একটি গাছ শুকিয়ে যায়,
এই প্রশ্নই তার কবরফলক।
যদি কোনো দিন এই দেশ
সত্যিকারের স্বাধীন হয়,
যদি কোনো দিন মানুষ
ভয় নয়, বিবেক নিয়ে বাঁচে,
তখন কেউ একজন বলবে,
একটি ঝরা পাতা
আমাদের বন বাঁচাতে
নিজেই ঝরে পড়েছিল।
রহমান মৃধা: গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
ইমেইল: [email protected]
রুয়ান্ডার সমাজে দীর্ঘদিন ধরে হুতু ও তুতসি পরিচয় বিদ্যমান ছিল। কিন্তু এই পরিচয়কে যখন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হলো, তখন একটি সাধারণ সামাজিক বিভাজন ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নেয়।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখনো নিজেদের একটি ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল অর্থনীতি হিসেবে দেখব, নাকি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান কৌশলগত রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করব? জি৭-এর বার্তা আসলে সেই প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এনেছে।
এশিয়ান বাবাদের কত রকম বাহানা শুনি। এটা খেতে পারেন না তো ওটা করে দিতে হয়। আম্মি চাকরিতে চলে যাওয়ার পর আমার আব্বু খুকির মার রান্না করা খাবার মাসের পর মাস খেয়েছেন, নিজের কাজ নিজে করেছেন, আমাদের একটা নিরাপদ জায়গায় মানুষ করেছেন। কোনো অভিযোগ শুনিনি।
পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোপরি নাগরিক সচেতনতা। আমরা যদি বর্জ্যকে সমস্যা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখতে শিখি, তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হতে পারে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব।