logo
মতামত

এমন একটা মা দে না

ফারহানা আহমেদ লিসা
ফারহানা আহমেদ লিসা১১ মে ২০২৫
Copied!
এমন একটা মা দে না
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব মা দিবসের প্রাক্কালে পুলিশ অফিসার পলাশ চলে গেলেন। মা একটা অপরূপ শব্দ, একটা অনন‍্য সম্পর্ক যেটা পৃথিবীর সুন্দরতম সম্পর্কের একটা। নিজের জীবন বাজি রেখে মা সন্তানের জন্ম দেন, তিল তিল করে বড় করে তোলেন। যার অনেক কিছু আছে তিনি যেমন চেষ্টা করেন, যার তেমন কিছু নেই তিনিও অন‍্যের বাসায় কাজ করে হলেও চেষ্টা করেন। সন্তান যেন পড়াশোনা করে, যোগ‍্য হয়, নিজে সবাইকে নিয়ে একটা সুন্দর গড়ে তোলে এবং সুন্দর একটা জীবন পায়।

আমার সঙ্গে কাজ করে ক‍্যাথি (আসল নাম না বলি)। প্রথম প্রেগন‍্যান্সির সময় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করত সে। যেহেতু আপাতদৃষ্টিতে তাঁর কোনো সমস‍্যা নেই এবং সে অনুযোগ করেনি কিছু নিয়ে, সুতরাং আমাদের মতোই কাজ করল সে প্রায় পুরো নয় মাস। বাবুটা হওয়ার সময় ওর ইউটেরাইন রাপচার হলো, ওর বাবু আর আমার বন্ধু বেঁচে গেল। একটু বেশি দিন ক‍্যাথি নিজের বাবুর সঙ্গে থাকতে পারবে বলে ছুটিও নেয়নি ও আগে আগে। ছয় মাস পরে ও যখন ফিরে আসল কাজে, আমি শুনলাম, জানলাম আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারিয়ে ফেলেছিলাম প্রায়। কঠিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছোট্ট মনার বড় হয়ে ওঠার গল্প দেখছি। সে মেয়ে দ্বিতীয় বাচ্চা নিল ওর বাবুটা একা একা বড় হবে বলে। কঠিন যত্নে মানুষ করছে ওদের। কোনোদিন একটা উহ শব্দ শুনিনি ওর মুখে। অথচ কতদিন ঘুমাতে পারে না ও কে জানে।

লেখিকা
লেখিকা

এটা একটা এক্সট্রিম উদাহারণ তবে বাচ্চাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুন্দর জীবন নিয়ে উৎকন্ঠিত একদল মা আমার বন্ধু। আমি ওদের কাছ থেকে সব শুনে দেখে শিখি। দুটা বিড়াল বাচ্চা অ্যাডপ্ট করেছে আমার বাচ্চারা। ওরা পড়াশোনার জন‍্য চলে গেলে বাচ্চা কে দেখবে এমন উৎকন্ঠা দেখে আমারই এক বন্ধু বলে দিল, কিচ্ছু চিন্তা কর না। নাম্বার দিয়ে দেব, যখনই লাগবে জানিও ক‍্যাট সিটার চলে যাবে বাসায়। মায়ের সব সময়ের একটা উৎকণ্ঠা আমি না থাকলে আমার সন্তান কে দেখবে? ওরা বড় হলে, নিজের দেখাশোনা করতে পারলে মরেও শান্তি মায়ের। এ কাহিনী সর্বজনীন। দেশ কাল মানে না।

এখন পরিণত বয়সের কিছু সমস‍্যার কথায় আসি। যে সন্তানকে এত যত্নে মানুষ করা হয়েছে, সে সন্তান যাতে পরবর্তী জীবনে সুখী থাকতে পারে, বাবা বা মাদের এতটুকু মানসিক প্রস্তুতি থাকা এখন সময়ের দাবি। ছেলে বিয়ে করল বা মেয়ে বিয়ে করল, একজন নতুন মানুষের সঙ্গে তাকে মিলেমিশে সুন্দর করে জীবন কাটাতে হবে। তাদেরকে সুযোগ থাকলে একটু নিজেদের মতো থাকতে দিলে সমস‍্যা কোথায়? ছেলে সন্তান বলেই ছোটবেলার মতো সবসময় মাকে সময় দেবে এটা কেমন কথা? মায়ের সুস্থ সুন্দর করে বেঁচে থাকার একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে এবং মাঝে মাঝে এসে খোঁজ খবর করলে কি সমস‍্যা? একান্ত যদি একসঙ্গে থাকতেই হয়, নিজের সংসারে যেমন দাপটে মা ছিলেন, ছেলের সংসারে সে জায়গাটা বউকে দিলে, নিজের সন্মান নিয়ে একটু চুপচাপ থাকলে কি সমস‍্যা?

এই যে পলাশ চলে গেলেন, তাঁর মাতো শত কাঁদলেও এই ছেলে ফিরে পাবেন না। আর বউটার কথা চিন্তা করেও কষ্ট হচ্ছে। এই বাচ্চা বয়সে পৃথিবীতে ভীষণ দামী একজন মানুষ তিনি হারালেন। আত্মহত্যা কোনো কিছুর সমাধান না, পৃথিবীর সব কষ্টের শুরু। একজন ভীষণ মেধাবী মানুষকে এ পর্যায়ের মানসিক বিপর্যয়ের নিয়ে যাবার দায় মাকে নিতেই হবে। সঙ্গে পরিবারের অন‍্য ভাইদেরও। দেশ একজন মেধাবী পুলিশ অফিসার হারাল যার সেবা আমাদের দরকার ছিল।

আমরা এমন মা চাই যারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করেন, দোয়া করেন এবং চেষ্টা করেন। কোনো সন্তান নিজের ইচ্ছায় পৃথিবীতে আসে না। তাকে রিটায়ারমেন্ট প্ল‍্যান হিসেবে বড় করারও কিছু নাই। সে সুস্থভাবে বেঁচে থাকলে মার জীবনও অনন‍্য সুন্দরই থাকবে। নয়তো এ জীবন কোনো জীবনই না যদি আমাদের সামান্য কারণেও সন্তানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।

আরও দেখুন

চাঁদহাট গ্রাম হয়ে উঠল বৃন্দাবন

চাঁদহাট গ্রাম হয়ে উঠল বৃন্দাবন

দোল পূর্ণিমায় শ্রী শ্রী মহানাম চর্চার অনুষ্ঠান। কৃষ্ণ কিংবা রাম নামের জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে এ এক আয়োজন। দুই দিন ভাগবত পাঠ, তিন দিন নাম কীর্তন। শেষ দিনে লীলা কীর্তন। অনুষ্ঠানজুড়ে নিমাই-বিষ্ণুপ্রিয়া এবং রাধা-কৃষ্ণের পৌরাণিক দৃশ্য তুলে ধরা হয়। দেশের ৬টি নাম কীর্তনের দল আমন্ত্রিত হয়েছিল এখানে।

১ দিন আগে

প্রবাসে ঈদের তাকবিরেই চোখের কোণায় জল টলমল

প্রবাসে ঈদের তাকবিরেই চোখের কোণায় জল টলমল

আমার কাছে বিষ্ময়কর লাগে, মালয়েশিয়ার যত মসজিদে ঈদের তাকবির শুনেছি, মনে হয় সবার কণ্ঠ যেন একই! যেন রেকর্ড করা তাকবির বাজানো হচ্ছে। বাস্তবে তা নয়। সরাসরি তাকবির পাঠ করেন মসজিদের ঈমাম ও মুসল্লিরা। সবাই সেই মধুর সুরে। একই ছন্দে।

৩ দিন আগে

কবিতা: ভালো নেই আমরা

কবিতা: ভালো নেই আমরা

নিজের বিপরীতে চলছি আমি/ ঘন অন্ধকার/ তুমি অদেখা ছায়া/ তুমি ছায়ার তরঙ্গ,/ তুমি আদি এবং মৌলিক/ উপলব্ধির বদল তুমি,/ স্বপ্ন, ওটা মিথ্যে/ অপ্রতিরোধ্য সত্য হলো জীবন্ত স্পন্দন।

১১ দিন আগে

জাতিসংঘ সংস্কার হোক, নাগরিক সমাজের কণ্ঠ রুদ্ধ করে নয়

জাতিসংঘ সংস্কার হোক, নাগরিক সমাজের কণ্ঠ রুদ্ধ করে নয়

বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার শক্তি আসে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি থেকে। নাগরিক সমাজকে বাদ দিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমে শক্তিশালী হলেও বাস্তবে তা মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হবে। ফলে জাতিসংঘ আরও দূরে সরে যাবে সাধারণ মানুষের জীবন থেকে।

১১ দিন আগে