logo
খবর

অস্ট্রেলিয়ায় সফল উদ্যোক্তা শামীম এবার দেশে বিনিয়োগ করতে চান

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক১২ এপ্রিল ২০২৫
Copied!
অস্ট্রেলিয়ায় সফল উদ্যোক্তা শামীম এবার দেশে বিনিয়োগ করতে চান
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ শামীম। ছবি: দ্য ডেইলি স্টার

প্রায় আঠারো বছর আগে নারায়ণগঞ্জের এক যুবক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর কয়েক শ ডলার নিয়ে মেলবোর্নে গিয়েছিলেন। আজ, তিনি অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ১০৮টি 'সাবওয়ে' আউটলেটের মালিক। তিনি মোহাম্মদ শামীম। এখন তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজ প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক পরিচালকদের তালিকায়।

খবর দ্য ডেইলি স্টারের।

অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ফাস্টফুড চেইনগুলোর একটি সাবওয়ে। দেশটিতে এক হাজার ২০০-রও বেশি স্টোর আছে। এটি মেইড-টু-অর্ডার স্যান্ডউইচ, সালাদ ও মোড়কের জন্য পরিচিত।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে যোগ দিতে সম্প্রতি মোহাম্মদ শামীম বাংলাদেশে আসেন। সফরকালে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। প্রথম কাজ করেছিলাম ফাস্টফুডের দোকানে। থালাবাসন ও টেবিল পরিষ্কার করতাম। যতটা সম্ভব টাকা বাঁচিয়েছি।'

শুরুতে তিনি মেলবোর্নের এক শান্ত শহরতলিতে তাঁর প্রথম সাবওয়ে আউটলেট খোলেন। এরপর শুরু হয় দ্রুত উত্থান। তাঁর ব্যবসায় এখন দুই হাজারেরও বেশি কর্মী আছে। বার্ষিক লেনদেন ১২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

ব্যবসায় সাফল্যের পরও তাঁর কর্মস্থলে বাংলাদেশির সংখ্যা কম বলে তিনি কষ্ট পান।

তিনি বলেন, 'মোট কর্মীর মাত্র তিন শতাংশ বাংলাদেশি। অর্থাৎ, ৬০ জন। আমি দেশ থেকে কর্মী নিতে চাই। কিন্তু ভিসা সমস্যা আছে। আবার প্রশিক্ষণের অভাব অনেককে পিছিয়ে দিয়েছে।'

এখন তিনি তাঁর সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার উপায় খুঁজছেন।

প্রতি বছর তিনি মশলা ও মোড়কের জন্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ করেন। বেশির ভাগই আসে চীন থেকে।

'যদি এই সরবরাহ ব্যবস্থার একটি ছোট অংশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়, তবে কাজের সুযোগ হতে পারে। রপ্তানি বাড়াতে পারে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরিতেও সহায়তা করতে পারে। বিশ্বব্যাপী ১২ হাজারের বেশি সাবওয়ে আউটলেট আছে। একই রকমের আরও কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান আছে।'

তিনি মনে করেন—খাবারের মান বজায় রাখার মতো মোড়ক, সস, ইউনিফর্ম ও রেস্তোরাঁর অন্য প্রয়োজনীয় পণ্য বাংলাদেশ থেকে আনা যেতে পারে।

বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশে আমরা ৫ থেকে ৬ ইউএস ডলারে টি-শার্ট তৈরি করি। অস্ট্রেলিয়ায় তা বিক্রি হয় ৩০ ইউএস ডলারে। এটি কেবল বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার বিষয় নয়, এটি আমাদের উৎপাদন ক্ষমতাকে কতটা অবমূল্যায়ন করা হয় তা উপলব্ধি করার বিষয়ও।'

তবে শুধু কম খরচ দেখেই বিদেশিরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসেন না।

'আমাদের যা নেই তা হলো—দ্রুত, স্বচ্ছ ও দক্ষ ব্যবস্থা। বিশেষ করে, ব্যাংকিং ও লজিস্টিক খাতে এসবের অনেক অভাব।' শামীমের মতে, টাকা পাঠানোর ঝামেলা বড় সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, 'আমি যদি ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে ১০ হাজার ডলার পাঠাই, গাড়ি থেকে নামার আগেই তা আমার অ্যাকাউন্টে চলে আসে। কিন্তু যদি বাংলাদেশের ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাই, তাহলে দুই দিন লেগে যায় শুধু ট্রান্সফার ঠিক মতো হয়েছে কি না তা বুঝতে।'

এটা অনেকের কাছে ছোট বিষয় মনে হতে পারে, কিন্তু উদ্যোক্তাদের কাছে এটা চুক্তি ভাঙার সামিল।

'একজন ব্যবসায়ীর কাছে সময়ই সবকিছু। এক ঘণ্টা দেরি মানে চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো। বাংলাদেশকে আমাদের মতো প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জীবনযাত্রা সহজ করতে হবে।'

শামীমের কাছে বাংলাদেশে বিনিয়োগ একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের তুলনায় বেশি কিছু। এটি ব্যক্তিগত মিশন। তিনি বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সময় বাবা-মাকে ফেলে এসেছিলাম। ভাই-বোনেরা এখনো দেশে। আমার হৃদয় এখনো সেখানেই আছে।'

তিনি প্রায়ই বাংলাদেশে তার স্বপ্ন কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে চান। যেমন—প্যাকেজিং সুবিধা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা বা কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়া।

'কিন্তু যখনই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিই, তখনই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দেখি। অনিশ্চয়তার কারণে আমি আটকে যাই। ভর্তুকি চাই না, চাই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে। সুস্পষ্ট নীতি, দক্ষ ব্যাংকিং, উন্নত লজিস্টিক। এটুকুই।'

দেশে প্যাকেজিং উপকরণ সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কয়েকজন সরবরাহকারীদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হওয়ায় শামীম আশাবাদী। তিনি স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে যৌথ উদ্যোগও খুঁজছেন।

'যদি সঠিক পরিবেশ পাই তবে দেশে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। এতে শুধু আমিই লাভবান হব না, আরও অনেকের জন্য সুযোগ হবে।'

তাঁর বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ শত শত মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে। খাবারের ব্যবসায় বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করতে পারে।

'বাংলাদেশি হিসেবে গর্বিত। আমি এখন যাই হই না কেন, শিকড় সেখানেই। এখন সময় এসেছে দেশকে কিছু দেওয়ার। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দিতে চাই।'

আরও দেখুন

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একইসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। তাদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জামাতে অংশ নেন।

২ দিন আগে

সৌদিতে নিহত মোশাররফের দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ মন্ত্রণালয় বহন করবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সৌদিতে নিহত মোশাররফের দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ মন্ত্রণালয় বহন করবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

মরদেহ হস্তান্তরকালে মন্ত্রী নিহত মোশাররফ হোসেনের পরিবারকে দাফন কার্য সম্পন্নের জন্য ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। এ ছাড়া, ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে ঈদের পর নিহতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

৩ দিন আগে

বাংলাদেশে ঈদ উদ্‌যাপিত হবে শনিবার

বাংলাদেশে ঈদ উদ্‌যাপিত হবে শনিবার

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস হয়ে থাকে। ২৯ রমজান শেষে যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। আর চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ রমজান শেষে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়।

৩ দিন আগে

সমুদ্রপথে অবাধ ও বৈধ নৌচলাচলের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

সমুদ্রপথে অবাধ ও বৈধ নৌচলাচলের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যুদ্ধপ্রবণ এলাকায় চলাচলকারী জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকসহ বিশ্বব্যাপী সমুদ্রকর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন।

৩ দিন আগে