logo
প্রবাসের খবর

ভ্যাটিকান সিটি এবং সুইস গার্ড

সহিদুল আলম  স্বপন, জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
সহিদুল আলম স্বপন, জেনেভা, সুইজারল্যান্ড২২ অক্টোবর ২০২৫
Copied!
ভ্যাটিকান সিটি এবং সুইস গার্ড
ছবি: সংগৃহীত

ভ্যাটিকান সিটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ। এর আয়তন মাত্র দশমিক ৪৩ কিলোমিটার (৪৩ হেক্টর)। এটি পোপের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। এর অবস্থান ইতালির রাজধানী রোমে। ভ্যাটিকান সিটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। ক্ষুদ্র এই রাষ্ট্রের নিজস্ব সরকার, সেনা, মুদ্রা ও ডাক ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাথলিক ধর্মীয় স্থান—‘সেন্ট পিটার্স বাসিলিকা’ ও ‘সেন্ট পিটার্স স্কোয়ার’ অবস্থিত।

ভ্যাটিকান সিটির নাগরিকদের প্রায় সবাই পোপের কর্মচারী, ধর্মীয় নেতা ও ক্যাথলিক ধর্মের কর্মকর্তা। ভ্যাটিকান সিটি একটি ধর্মীয় দেশ হলেও অনেক সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও সম্পদও ধারণ করে। যেমন মাইকেল এঞ্জেলোর তৈরি সিস্টিন চ্যাপেল ও রেনেসাঁ যুগের বিভিন্ন শিল্পকর্ম।

ভ্যাটিকানের সুইস গার্ড (Swiss Guard) হলো ভ্যাটিকান সিটির একমাত্র ও আনুষ্ঠানিক সামরিক বাহিনী। তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো পোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ও প্রাচীনতম সেনাবাহিনীর একটি। তারা তাদের পোশাক, শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত।

Swiss Guard 3

কারা তারা?

সুইস গার্ডরা মূলত সুইজারল্যান্ডের নাগরিক। তারা রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী। তাদের অবশ্যই অবিবাহিত, সুস্থদেহী পুরুষ এবং সুইস সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হয়। তারা সাধারণত ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী হয়ে থাকেন।

কেন তারা ভ্যাটিকানে?

১৫০৬ সালে পোপ জুলিয়াস দ্বিতীয় প্রথম এই বাহিনী গঠন করেন। সেই সময় সুইস সেনারা ইউরোপজুড়ে দক্ষ ও বিশ্বস্ত ভাড়াটে সেনা হিসেবে খ্যাত ছিল। ১৫২৭ সালে ‘স্যাক অব রোম’-এর সময় সুইস গার্ডরা পোপকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছিল। সুইস গার্ডদের এই আত্মত্যাগ তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আস্থা গড়ে তোলে।

তাদের কাজ কী?

পোপের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভ্যাটিকানের বিভিন্ন প্রবেশপথ পাহারা দেওয়া এবং রাজকীয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সম্মানরক্ষী হিসেবে কাজ করা।

তাদের ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক, হেলমেট ও ঐতিহাসিক অস্ত্র (যেমন হ্যালবার্ড) দেখে অনেকেই মনে করেন, এসব শুধুই প্রতীকী, তবে বাস্তবে তারা আধুনিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অস্ত্রে সজ্জিত।

সুইস গার্ডে যোগদান করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলো হলো সুইস নাগরিকত্ব, ধর্মীয় অবস্থান, বয়স ও শারীরিক গুণাবলি, সামরিক প্রশিক্ষণ, অবিবাহিত ও বিস্তারিত পছন্দের প্রক্রিয়া।

Swiss Guard 2

সুইস গার্ডে যোগ দেওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই সুইজারল্যান্ডের নাগরিক হতে হবে। সুইস গার্ডের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ ছাড়া, প্রার্থীকে রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী হতে হবে। কারণ সুইস গার্ডের কাজ পোপ ও ভ্যাটিকান সিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা ক্যাথলিক ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রার্থীর বয়স ১৯ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। শারীরিকভাবে সুস্থ ও ফিট হতে হবে। তাদের উচ্চতা, শারীরিক গঠন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। প্রার্থীদের সুইস সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। প্রার্থীদের সুইস সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়া একটি অপরিহার্য শর্ত। প্রার্থীকে অবিবাহিত হতে হবে।

যেহেতু সুইস গার্ডদের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, অবিবাহিত থাকা এক ধরনের নিরাপত্তা নীতি হিসেবেও বিবেচিত হয়। এটি একটি খুবই নির্দিষ্ট ও কঠোর প্রক্রিয়া, তাই একাধিক সাক্ষাৎকার ও পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়।

যদি কেউ এই শর্তগুলো পূরণ করেন, তাহলে তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সুইস গার্ডে যোগদান করতে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষ হলে, তিনি ভ্যাটিকানে এসে পোপের নিরাপত্তা ও ভ্যাটিকান সিটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন।

আরও দেখুন

হামলার ঝুঁকির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় ইরানিদের

হামলার ঝুঁকির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় ইরানিদের

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য বিমান হামলার ঝুঁকি উপেক্ষা করেই রাজধানী তেহরানে খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজে শামিল হন হাজার–হাজার নারী-পুরুষ।

২ দিন আগে

যুদ্ধের আতঙ্কে ইরানে উৎসবের রং ম্লান

যুদ্ধের আতঙ্কে ইরানে উৎসবের রং ম্লান

নওরোজের আগে গত ১৮ মার্চ রাতে ইরানিরা সাধারণত রাস্তায় নেমে অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে যে ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালন করে, এবার তার কিছুই চোখে পড়েনি।

২ দিন আগে

মধ্যপ্রাচ্যে বিষণ্ন ঈদ

মধ্যপ্রাচ্যে বিষণ্ন ঈদ

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতেও বোমাবর্ষণের আতঙ্ক উৎসবের আমেজকে ফিকে করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ মনে করা এই দেশগুলো এখন তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

৩ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কে ঈদ ২০ মার্চ, সিঙ্গাপুরে ২১ মার্চ

অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কে ঈদ ২০ মার্চ, সিঙ্গাপুরে ২১ মার্চ

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল ও ফতোয়া কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানমন্দিরের সঙ্গে পরামর্শ এবং চাঁদের অবস্থান ও দৃশ্যমানতা সংক্রান্ত গাণিতিক হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৪ দিন আগে