logo
প্রবাসের খবর

কানাডায় শরণার্থী আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে আটক

মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান খান, কানাডা থেকে১৮ অক্টোবর ২০২৫
Copied!
কানাডায় শরণার্থী আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে আটক
মাহিন শাহরিয়ার

কানাডায় শরণার্থী আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহিন শাহরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে আটক হয়েছেন। তিনি বর্তমানে দেশটির বাফেলো শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন। মাহিন দাবি করেছেন, তিনি ভুলবশত কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত পেরিয়ে চলে গেছেন—কিন্তু এখন কানাডা তাকে আর ফিরিয়ে নিচ্ছে না।

মাহিন শাহরিয়ার জানান, গত ১২ মে তিনি মন্ট্রিয়েলের কাছে এক বন্ধুর বাড়িতে কয়েক দিন থাকার প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বন্ধুর দেওয়া ঠিকানাটি আসলে সীমান্তের খুব কাছাকাছি ছিল। বন্ধুর ফোনে পাঠানো নির্দেশনা অনুসরণ করতে গিয়ে তিনি অজান্তেই সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতেই পারিনি আমি যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে গেছি। বুঝতে পারার পর সীমান্তরক্ষীদের কাছে গিয়ে সব ব্যাখ্যা করি। আমি ভেবেছিলাম, তারা আমাকে কানাডায় ফেরত পাঠাবে, কিন্তু তারা আমাকে আটক করে।’

শাহরিয়ারের আইনজীবী ওয়াশিম আহমেদ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) স্বীকার করেছে, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে মাহিন শাহরিয়ার নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে ফেরার আশঙ্কায় রয়েছেন।

আইনজীবী আরও জানান, মাহিনকে কানাডায় ফেরত পাঠাতে আইসিই প্রস্তুত থাকলেও কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) তার প্রবেশ অনুমোদন দেয়নি। ফলে শাহরিয়ার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

সিবিএসএ এক ইমেইল বার্তায় জানিয়েছে, তারা বিদেশে আটক কোনো ব্যক্তির বিষয়ে মন্তব্য করে না এবং প্রতিটি প্রবেশের সিদ্ধান্ত কেসভিত্তিকভাবে নেওয়া হয়।

ওয়াশিম আহমেদ এখন ফেডারেল কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করেছেন, যাতে মানবিক কারণে কানাডা মাহিন শাহরিয়ারকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

ওয়াশিম আহমেদ বলেন, ‘তিনি [মাহিন] ২০১৯ সাল থেকে কানাডায় বসবাস করছেন। তার মা ও বোন কানাডায় বৈধ অবস্থায় আছেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।’

মাহিন শাহরিয়ারের মা ইতিমধ্যে কানাডায় শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন এবং তার বোন পূর্ণসময়ে (ফুল টাইম) পড়াশোনা করছেন। তবে শাহরিয়ারের প্রথম আশ্রয় আবেদনটি এক প্রতারক ইমিগ্রেশন পরামর্শকের মাধ্যমে জমা পড়ায় তা বাতিল হয়।

আইনজীবী ওয়াশিম আহমেদ জানান, এই ভুল আবেদন এবং মানসিক চাপের কারণেই মাহিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাকে এই দুর্ঘটনার মুখে ফেলে দেয়।

বর্তমানে আইসিই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারছে না, কারণ তার কোনো ভ্রমণ নথি নেই। তবে তার পরিবার কানাডায় থেকে মারাত্মক মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তার মা ইতিমধ্যে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মানসিক অবসাদের কারণে। তার বোন এখন পরিবারকে সাহায্য করার জন্য পড়াশোনা বন্ধ করার কথা ভাবছে।’

এদিকে, সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের (Safe Third Country Agreement) আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আটক কোনো কানাডা-সংলগ্ন আশ্রয়প্রার্থীকে ১৪ দিনের মধ্যে কানাডায় ফেরত পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। আইনজীবী ওয়াশিম আহমেদ বিশ্বাস করেন, এই আইন অনুযায়ীই মাহিন শাহরিয়ারকে ফেরত নেওয়া উচিত।

আরও দেখুন

মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযানে ১৯ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযানে ১৯ বাংলাদেশি আটক

দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, সোমবার দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে ২০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। তাদের সম্প্রতি কেলান্তানের একটি অবৈধ প্রবেশপথ দিয়ে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১ দিন আগে

১৮০০ বিদেশি ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সির চুক্তি স্থগিত করেছে সৌদি আরব

১৮০০ বিদেশি ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সির চুক্তি স্থগিত করেছে সৌদি আরব

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাসান আল-নুয়াইমি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন না করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওমরাহ খাতের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো ও হাজিদের অধিকার সুরক্ষায় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

৩ দিন আগে

আমেরিকা ইরানে হামলা চালালে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি খামেনির

আমেরিকা ইরানে হামলা চালালে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি খামেনির

খামেনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধ শুরু করতে চাই না এবং কোনো দেশে আক্রমণের ইচ্ছাও আমাদের নেই। তবে যদি কেউ ইরানি জাতির ওপর হামলা চালায় কিংবা হয়রানি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর পাল্টা কঠোর আঘাত হানা হবে।

৩ দিন আগে

আইসিই সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে আমেরিকাজুড়ে বিক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

আইসিই সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে আমেরিকাজুড়ে বিক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

বিক্ষোভ শুধু মিনেসোটায় সীমিত থাকেনি। গতকাল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২৫০টি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বড় শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটন।

৫ দিন আগে