logo
প্রবাসের খবর

নতুন শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিরতা, দেশবাসীকে ‘অনমনীয়’ হতে বললেন ট্রাম্প

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক০৬ এপ্রিল ২০২৫
Copied!
নতুন শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিরতা, দেশবাসীকে ‘অনমনীয়’ হতে বললেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেন, ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র। ২ এপ্রিল ২০২৫। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে ‘অনমনীয়’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য প্রবেশের ওপর ১০ শতাংশ ভিত্তি ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে আরোপ করা শুল্ক গতকাল শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে দেশটির আমদানি করা সব পণ্যের ওপর এদিন থেকেই বাড়তি অর্থ আদায় শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় পড়া দেশগুলোর অন্যতম যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতারা বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কোনো কিছুই তারা বিবেচনার বাইরে রাখছেন না। আর ওই ঘোষণায় বিশেষভাবে ধাক্কা খাওয়া চীন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

গত বুধবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প তাঁর নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন। এর দুই দিন পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান পুঁজিবাজারের সূচকই ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময় অর্থাৎ ২০২০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির পুঁজিবাজারের জন্য এটিই ছিল সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ।

ফেডারেল সরকারের আকার (জনবল ও খরচ) কমানোসহ ট্রাম্পের নতুন আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গতকাল শনিবার ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও অন্য শহরের রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ।

trumptariffs

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুঁজিবাজারের ওই অস্থিরতাকে ‘অর্থনৈতিক বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এতে জিতবে (অস্থিরতা কাটিয়ে উঠবে)।’

ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্টে দেশবাসীর উদ্দেশে লেখেন, ‘অনমনীয় হোন, এটি সহজ হবে না, কিন্তু শেষমেশ যে ফলাফল আসবে, তা হবে ঐতিহাসিক।’

ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ধাক্কা ইতিমধ্যে লেগেছে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ও এশিয়ার পুঁজিবাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারের সূচকও কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দেশটির পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় ধসের ঘটনা। জার্মানি ও ফ্রান্সের পুঁজিবাজারেও একই রকম সূচক কমেছে।

ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিক্ষোভ হলেও এ নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’ এনে দিতে বিশ্বজুড়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে শুল্কের খড়্গ চাপিয়েছেন, তার ধাক্কা সামলাতে হবে দেশটির নাগরিকদেরও। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যেসব দেশ থেকে নিয়মিত পণ্য কিনে থাকে, সেসব দেশের প্রায় সবাই দেশটিতে রপ্তানি করা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে পোশাক থেকে শুরু করে কফি—সবকিছুতেই বাড়তি অর্থ গুনতে হবে যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা জারি করে ট্রাম্প দেশটিতে প্রবেশ করা শত শত কোটি ডলারের পণ্যে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। যেসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ’ বলে বিবেচনা করেছেন, সেসব দেশের ওপর তিনি চাপিয়েছেন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের বোঝা।

আরও দেখুন

হামলার ঝুঁকির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় ইরানিদের

হামলার ঝুঁকির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় ইরানিদের

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য বিমান হামলার ঝুঁকি উপেক্ষা করেই রাজধানী তেহরানে খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজে শামিল হন হাজার–হাজার নারী-পুরুষ।

২ দিন আগে

যুদ্ধের আতঙ্কে ইরানে উৎসবের রং ম্লান

যুদ্ধের আতঙ্কে ইরানে উৎসবের রং ম্লান

নওরোজের আগে গত ১৮ মার্চ রাতে ইরানিরা সাধারণত রাস্তায় নেমে অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে যে ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালন করে, এবার তার কিছুই চোখে পড়েনি।

২ দিন আগে

মধ্যপ্রাচ্যে বিষণ্ন ঈদ

মধ্যপ্রাচ্যে বিষণ্ন ঈদ

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতেও বোমাবর্ষণের আতঙ্ক উৎসবের আমেজকে ফিকে করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ মনে করা এই দেশগুলো এখন তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

৩ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কে ঈদ ২০ মার্চ, সিঙ্গাপুরে ২১ মার্চ

অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কে ঈদ ২০ মার্চ, সিঙ্গাপুরে ২১ মার্চ

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল ও ফতোয়া কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানমন্দিরের সঙ্গে পরামর্শ এবং চাঁদের অবস্থান ও দৃশ্যমানতা সংক্রান্ত গাণিতিক হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৫ দিন আগে