
নাইম আবদুল্লাহ, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনিতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আবেগঘন আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে একুশে মেলা ২০২৬।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত ক্যাম্বেলটাউন এলাকার ইঙ্গেলবার্নের হালিনান পার্ক প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলার আয়োজক ছিল সাবকন্টিনেন্ট ফ্রেন্ডস অব ক্যাম্বেলটাউন। সিডনির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসী কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান তরুণের নেতৃত্বে প্রভাত ফেরির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

মেলার প্রথম পর্বে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় লেখকদের আলোচনা সভা। “একুশের চেতনা এবং সমসাময়িক ভাবনা” শীর্ষক এই আয়োজনে বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য লেখকদের অংশগ্রহণে পর্বটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও ভাবগম্ভীর। আলোচনায় অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ান কবি গ্লেন কসার, কথাসাহিত্যিক ও অধ্যাপক আলী কাজী, একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এস এম আব্রাহাম লিঙ্কন, কথাসাহিত্যিক আরিফুর রহমান, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট নির্মল পাল, লেখক ও চিকিৎসক শাফিন রাশেদ, ‘পড়ুয়া আসর’–এর সম্পাদক ও লেখক নাসরিন মোফাজ্জল এবং লেখক কাশফি আলম।

এ বছর থেকে মেলা কর্তৃপক্ষ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা’ প্রবর্তন করেছে। মাতৃভাষা রক্ষা ও সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা পায় নেপালি ভাষা শিক্ষা স্কুল পাঠাশালা (বারডিয়া), বালারমালা তামিল এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশন, ওয়েস্টার্ন সিডনি উর্দু স্কুল, বাংলা পাঠশালা-বারডিয়া, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল, বারডিয়া স্কুলের সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম এবং সিডনিভিত্তিক বাংলা বই বিক্রেতা প্রশান্তিকা বইঘর।

সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র ডার্সি লাউন্ড। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল এমপি ডেভিড মনক্রিফ, এমপি নাথান হ্যাগার্টি, কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ, কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান ও কাউন্সিলর শিরিন আখতারসহ স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

মেলায় বইয়ের পসরা নিয়ে অংশ নেয় প্রশান্তিকা বইঘর, কারুকার্য প্রকাশনীসহ বিভিন্ন কুটির শিল্প ও রকমারি খাবারের স্টল। দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটে। সিডনির আলোকচিত্র শিল্পী এডওয়ার্ড অশোক অধিকারী পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছবি ধারণ করেন। মেলা উপলক্ষে একটি শৈল্পিক সাময়িকী ‘ধারা’ প্রকাশিত হয়। চমৎকার ম্যাগাজিনটি সম্পাদনা করেন লরেন্স ব্যারেল।

রাত ৯টা পর্যন্ত চলে একটানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী ঘোষণায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রধান সংগঠক কায়সার আহমেদ জানান, আগামী বছর রমজানের কারণে এক সপ্তাহ এগিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালে একুশে মেলা আয়োজন করা হবে।

প্রবাসের বুকে মাতৃভাষার চেতনাকে ধারণ করে একুশে মেলা ২০২৬ আবারও প্রমাণ করল, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির পরিচয়, ইতিহাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনিতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আবেগঘন আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে একুশে মেলা ২০২৬।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত ক্যাম্বেলটাউন এলাকার ইঙ্গেলবার্নের হালিনান পার্ক প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলার আয়োজক ছিল সাবকন্টিনেন্ট ফ্রেন্ডস অব ক্যাম্বেলটাউন। সিডনির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসী কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান তরুণের নেতৃত্বে প্রভাত ফেরির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

মেলার প্রথম পর্বে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় লেখকদের আলোচনা সভা। “একুশের চেতনা এবং সমসাময়িক ভাবনা” শীর্ষক এই আয়োজনে বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য লেখকদের অংশগ্রহণে পর্বটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও ভাবগম্ভীর। আলোচনায় অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ান কবি গ্লেন কসার, কথাসাহিত্যিক ও অধ্যাপক আলী কাজী, একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এস এম আব্রাহাম লিঙ্কন, কথাসাহিত্যিক আরিফুর রহমান, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট নির্মল পাল, লেখক ও চিকিৎসক শাফিন রাশেদ, ‘পড়ুয়া আসর’–এর সম্পাদক ও লেখক নাসরিন মোফাজ্জল এবং লেখক কাশফি আলম।

এ বছর থেকে মেলা কর্তৃপক্ষ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা’ প্রবর্তন করেছে। মাতৃভাষা রক্ষা ও সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা পায় নেপালি ভাষা শিক্ষা স্কুল পাঠাশালা (বারডিয়া), বালারমালা তামিল এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশন, ওয়েস্টার্ন সিডনি উর্দু স্কুল, বাংলা পাঠশালা-বারডিয়া, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল, বারডিয়া স্কুলের সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম এবং সিডনিভিত্তিক বাংলা বই বিক্রেতা প্রশান্তিকা বইঘর।

সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র ডার্সি লাউন্ড। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল এমপি ডেভিড মনক্রিফ, এমপি নাথান হ্যাগার্টি, কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ, কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান ও কাউন্সিলর শিরিন আখতারসহ স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

মেলায় বইয়ের পসরা নিয়ে অংশ নেয় প্রশান্তিকা বইঘর, কারুকার্য প্রকাশনীসহ বিভিন্ন কুটির শিল্প ও রকমারি খাবারের স্টল। দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটে। সিডনির আলোকচিত্র শিল্পী এডওয়ার্ড অশোক অধিকারী পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছবি ধারণ করেন। মেলা উপলক্ষে একটি শৈল্পিক সাময়িকী ‘ধারা’ প্রকাশিত হয়। চমৎকার ম্যাগাজিনটি সম্পাদনা করেন লরেন্স ব্যারেল।

রাত ৯টা পর্যন্ত চলে একটানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী ঘোষণায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রধান সংগঠক কায়সার আহমেদ জানান, আগামী বছর রমজানের কারণে এক সপ্তাহ এগিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালে একুশে মেলা আয়োজন করা হবে।

প্রবাসের বুকে মাতৃভাষার চেতনাকে ধারণ করে একুশে মেলা ২০২৬ আবারও প্রমাণ করল, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির পরিচয়, ইতিহাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।
সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র ডার্সি লাউন্ড। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল এমপি ডেভিড মনক্রিফ, এমপি নাথান হ্যাগার্টি, কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ, কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান ও কাউন্সিলর শিরিন আখতারসহ স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকেরা জানান, প্রবাসে থেকেও নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করার জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ ধরনের উৎসব প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করে।
‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’—জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উৎসবমুখর এ অনুষ্ঠানে বাঙালি মেয়েরা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে, খোঁপায় ফুল গুঁজে, নানা বাহারি রঙে সেজে এতে অংশ নেন।
গান শেষ হলেও থেমে থাকেনি গল্প। আড্ডায় আড্ডায় উঠে আসে প্রবাসজীবনের না-বলা কথাগুলো। কুইজের মজায় জমে ওঠে হাসির রোল, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে খুলে যায় স্মৃতির ঝাঁপি। কেউ শোনান প্রথম বসন্তে প্রেমে পড়ার গল্প, কেউ আবার ভালোবাসা দিবসের পুরনো চিঠি কিংবা দূরে থেকেও ভালোবাসা আগলে রাখার অভিজ্ঞতা।