প্রযুক্তি, রাজনীতি ও সমাজের সন্ধিক্ষণে—বাংলাদেশ কি প্রস্তুত এআই যুগের জন্য?
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্য প্রথম ও প্রধান বিষয় হলো প্রস্তুতি। বিদেশি সাংবাদিকের সামনে দাঁড়ানো মানে ব্যক্তিগত মতামত দেওয়া নয়; বরং দেশের রাজনৈতিক অবস্থান, দাবি ও বাস্তবতাকে প্রতিনিধিত্ব করা। সে ক্ষেত্রে ভাষাগত দুর্বলতা কোনো অজুহাত হতে পারে না।
নতুন বাংলাদেশে মানুষ রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমার—যাই হোক না কেন, পরিচিত হবে তার শ্রম ও প্রতিভায়। আমরা যে ঘরে থাকি, যে চেয়ারে বসি, যে হাঁড়িতে ভাত রান্না করি, যে রাস্তা দিয়ে চলি—সবকিছুর পেছনেই আছে এই মানুষের হাত।
বাংলাদেশের রাজনীতির সূচনা হয়েছিল গণরাজনীতির ভেতর দিয়ে। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ একটি সুস্পষ্ট রাষ্ট্রচিন্তা নির্মাণ করেছিল—রাষ্ট্র জনগণের, ক্ষমতা জনগণের সম্মতির ফল। কিন্তু স্বাধীনতার পর খুব দ্রুতই সেই ধারায় ছেদ পড়ে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশের প্রথম নারী এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার সময় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন । বিএনপি ও দলটির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।
আজ যখন বলা হচ্ছে, “এটি আদর্শিক নয়, কেবল নির্বাচনী সমঝোতা”— তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যদি আদর্শ বিসর্জন দিতে হয়, তাহলে এনসিপি আর অন্যদের থেকে আলাদা থাকল কোথায়?
নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ কারাবাসের পর প্রতিশোধ নয়, সমঝোতার রাজনীতি বেছে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোই বদলে দেয়। প্রত্যাবর্তন কখনো স্থিতি আনে, কখনো নতুন সংকট সৃষ্টি করে।
সপরিবারের ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার ৯টা ৫৭ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণ করে।
ন্যায়ের পথে হাঁটাই ইতিহাসে স্থায়ী হওয়ার একমাত্র উপায়। ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, দেহ থেমে যেতে পারে, কিন্তু আদর্শ টিকে থাকে। জননীতি সেই আদর্শেরই নাম, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে মানুষের মর্যাদা বড়, আর ভোটের চেয়েও সম্মান মূল্যবান।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের একমাত্র যোগ্যতা—অসততা ও মিথ্যাচার। আর কর্মীদের যোগ্যতা—তোষামোদ। এক কঠিন সত্য হলো—এই দেশে কোনো নেতা কখনোই অযোগ্য হয় না, দুর্নীতি যতই করুক।
সমস্যা সম্পদ নয়—সমস্যা চরিত্রের, মানসিকতার, আর সৎ মানুষের কণ্ঠরোধের। রাজনৈতিক নেতাদের ওলি-আউলিয়া ভাবার সুযোগ নেই। সভ্য দেশে একটি গুরুতর অপরাধই তাদের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানে। আমাদের দেশে এটিই সবচেয়ে বড় ঘাটতি।
বাংলাদেশ আজ এক নতুন সূচনার দোরগোড়ায়। দমন ও বিভাজনের অন্ধ অধ্যায় পেরিয়ে জাতি আজ নতুন আলো দেখছে। কিন্তু এই আলোর পথ সহজ নয়। পরিবর্তনের যাত্রা টেকসই করতে হলে আত্মসমালোচনার সাহস থাকতে হবে—কে কোথায় ভুল করেছে, কেন ভুলের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে।
স্বাধীনতার পরের বছরগুলোয় দেশটির প্রধান কাজ ছিল— পুনর্গঠন ও স্বপ্নকে প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু রাষ্ট্র যখন ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রে বন্দী হয়ে পড়ল, তখন জনগণের কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেল প্রশাসনিক কোলাহলে।
প্রায় ৫৩ বছর ধরে চলা এই ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহসা একটা পরিবর্তনের ঢেউ এসে লেগেছে। আর এটা এসেছে ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। এই দুই নির্বাচন ছাত্র রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির প্রথাগত নির্বাচন ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে। কীভাবে তা সবার জানা।
যারা জনগণের ভোটে সংসদে গেছেন কিংবা রাজনৈতিক কৌশলে ক্ষমতা দখল করেছেন—তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তবু প্রশ্ন জাগে—তারা কি সত্যিই জানেন সংবিধানের অন্তর্নিহিত দর্শন কী? তারা কি বোঝেন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের গভীরতা কতটা?
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, এটি নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও জনগণের প্রতি সম্মানেরও পরীক্ষা। নরওয়ের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, জবাবদিহির চর্চা থাকলে গণতন্ত্র কেবল শক্তিশালী হয় না, রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তিও হয় আরও সুদৃঢ়।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এক অদ্ভুত ত্রিভুজ—আওয়ামী লীগ, বিএনপি আর জামায়াত। কখনো সরাসরি, কখনো মুখোমুখি সংঘাত, কখনো আঁতাত—এই ত্রিভুজই ছিল ক্ষমতার মূল অঙ্ক।